নিজস্ব প্রতিবেদক : পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও মিথেন নির্গমন হ্রাসে বাংলাদেশকে জরুরি ভিত্তিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংস্কার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, বর্জ্য পৃথকীকরণ ও মিথেন নিরসনে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আজ (২৪ মার্চ) চট্টগ্রাম থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে “বাংলাদেশের এনডিসি ২০২১ পর্যালোচনা: বিকেন্দ্রীকৃত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মিথেন নিরসন কৌশল সংযোজন” শীর্ষক অনলাইন পরামর্শ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। কর্মশালাটি আয়োজন করে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)।
পরিবেশ উপদেষ্টা দেশের অপরিকল্পিত ও অদক্ষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে বলেন, “আমরা এখনও জাতীয় পর্যায়ে কার্যকরভাবে বর্জ্য পৃথকীকরণ পদ্ধতি অনুসরণ করি না। কিছু পরীক্ষামূলক প্রকল্প থাকলেও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা কাঠামোবদ্ধ নয়।”
তিনি জানান, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বর্জ্য পৃথকীকরণ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, “আমাদের শহরাঞ্চলের বড় ল্যান্ডফিলগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।”
ল্যান্ডফিল অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন, তবে বাংলাদেশে বর্জ্যের উচ্চ আর্দ্রতার কারণে ইনসিনারেশন প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের বিষয়ে সতর্কতা জানান। “আমিনবাজার ও মাতুয়াইলের মতো ল্যান্ডফিলের জন্য স্থানভিত্তিক টেকসই সমাধান প্রয়োজন,” তিনি বলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ তাঁর জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDC) পরিকল্পনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে অন্তর্ভুক্ত করছে, যা নির্গমন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্জ্য পৃথকীকরণ নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে অবাস্তব সমাধান গ্রহণের প্রবণতা প্রতিহত করা যায়।”
কর্মশালায় বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. কামরুজ্জামান, ইএসডিও সভাপতি সৈয়দ মারগুব মুরশেদ, এবং ইএসডিওর প্রধান নির্বাহী ও নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানা। নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ ও স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিকেন্দ্রীকৃত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মিথেন নিরসনের বাস্তবসম্মত কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।