ইদানিং অনেকের লং টার্ম ঠান্ডা, ডায়রিয়া ইত্যাদি বেশি হচ্ছে। একটা কারণ সিজন চেঞ্জ, আরেকটা হতে পারে আপনার হাতে হাতে শখ করে পালা মুরগীর বাচ্চা! শখ করে অনেক বাসায় ১৫-২০ টাকায় কেনা মুরগীর বাচ্চা পালে।
এগুলো আসলে বিভিন্ন ফার্মের Culled birds তথা ছাটাইকৃত বাচ্চা। যেগুলোতে deformity (ত্রুটি) আছে, সেগুলোই বাজারে এভাবে ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হয়। এগুলো বাসায় ঠিকভাবে Brooding temperature পায়না, এগুলোর খাবার, ভেন্টিলেশন, এমনকি ক্লিনিং ও ঠিকভাবে হয়না। যার ফলে, অধিকাংশই কিছুদিন পর মারা যায় এবং ছড়িয়ে দিয়ে যায় বেশকিছু zoonotic disease (যেসব রোগ একপ্রজাতির প্রাণী থেকে অন্য প্রজাতির প্রাণীতে ছড়ায়)।
এসব রোগের মধ্যে প্রধান হচ্ছে, ডায়রিয়া কলেরা এবং বিভিন্ন ধরণের ফ্লু। ইদানিং অনেক বাচ্চারই বাসার মধ্যে এসকল মুরগী পেলে বিভিন্ন ধরণের রোগ জীবাণুর সংস্পর্শে আসছে (যেহেতু, ছাদে পালন করলে রোগ কম হয়)।
মুরগীতে অনেক ধরণের জীবানু থাকে। কমার্শিয়াল ফার্মিং এ এগুলো কন্ট্রোল ও নির্মূল করা হয় বিভিন্ন ধরণের ভ্যাকসিন, মেডিসিন, হাইজিন ও বায়োসিকিউরিটির মাধ্যমে। তাছাড়া মুরগীর ট্রেনিং হয় ফ্লক ট্রেনিং (দলবদ্ধ ট্রেনিং)। এগুলো বেড়াল বা কুকুরের মতো ট্রেইন আপ করা যায়না (খাওয়া/নির্দিষ্ট স্থানে মলমূত্র ত্যাগের ব্যাপারে), যেহেতু মুরগীর আইকিউ লেভেল ট্রেনিং এর জন্য পারফেক্ট না।
সুতরাং, পোল্ট্রি ফার্মিং কে একটি কঠিন শিল্প হিসেবে দেখুন এবং ফার্মারদের হাতে ছেড়ে দিন। আর খুব পালতে ইচ্ছা করলে আলাদা স্থানে পালন করুন, ছয়মাসের ডিপ্লোমা ট্রেনিং নিয়ে।
লেখক: সুমাইয়া কিবরিয়া, পিএইচডি, এনিম্যাল বায়োরিসোর্সেস সায়েন্স, ডানকুক ইউনিভার্সিটি, সাউথ কোরিয়া।